
রেদোয়ানুল হক সবুজ :
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার পশ্চিম বাণিয়াপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্তের জের ধরে গত ১১/০৭/২০২৬ তারিখে হত্যার উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্কুল শিক্ষক রতন তার বাহিনী নিয়ে রবিউলের উপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। ঐ সময় রবিউল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী রিক্তা খাতুন কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটায় যে কারনে থানা মামলা গ্রহন করে নাই। পরবর্তীতে রবিউল ইসলামের স্ত্রী রিক্তা খাতুন বাদী হয়ে মোকাম কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে গত ১৫ জুলাই তারিখে দন্ড বিধি ১৪৩/৪০৭/৩২৩/৩১৫/৩৭৯/৫০৬(২)/৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন যার মামলা রং কুমারখালী সি,আর/মিস-৩৯৬/২০২৬। উক্ত মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে গত ২০/০৭/২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতের শুনানী শেষে কুষ্টিয়া পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই তারিখে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের আমিনের মাধ্যমে জমির সীমানা মাপামাপির পর চিহ্নিত সীমানায় বাদীর স্বামী পিলার পুতিতে গেলে উপরোক্ত আসামীগন বাধা সৃষ্টি করিলে আমার স্বামীর সহিত আসামীদের বাক বিতন্ড হওয়ার এক পর্যায়ে আসামী রতন হোসেন মাষ্টার, মোঃ ইসরাইল, মোঃ ইসলাম প্রামানিক, মোছাঃ সাবিয়া খাতুন ও মর্জিনা বেগম লাঠি, হাত কুড়াল, হাতুড়ি, শাবল, কাঠের বাটাম সহ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বেআইনীজনতা বদ্ধে বাদীর বাড়ীর পূর্ব পাশে তাদের স্বত্বদখলীয় কলা ও মেহগনি বাগানের ভিতরে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বাদীর স্বামী রবিউল ইসলামের উপর ১ নং আসামী রতন তার বাহিনী নিয়ে তাদের হাতে থাকা লোহার শাবল, রড, হাতুড়ী, মাথায় আঘাত করা সহ মাথার ডানপার্শ্বে হাড়ভাঙ্গা শুরুতর জখম সহ একাধিক স্থানে আঘাত করে ক্ষত বিক্ষত করেন সন্ত্রাসী বাদী পক্ষ। অন্যদিকে আহত রবিউলের চিৎকারে ইমরান হোসেন ও সাচ্চু তাকে উদ্ধারে গেলে তাদেরকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলাপেথারী ভাবে পিটাইয়া মারাত্মক জখম করে। এসময় রিক্তা খাতুন ঠেকাতে গেলে তার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেনটি বর্তমান মূল্য ১,৫০,০০০ টাকা ছিড়িয়া নেয় এবং আসামী ইসরাইল সাচ্চুর পকেটে থাকা ব্যবসায়ের ৩০,০০০ টাকা ছিনাইয়া নেয়। পরবর্র্তীতে তাদের শোর চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে আসামীরা মামলা মোকদ্দমা করিলে বা জমিতে খুটি পুতিলে আমাদেরকে খুন জখম করিবে মর্মে হুমকি দিয়া দ্রুত সরিয়া পড়ে।
তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তার আহতদেরকে দ্রুত কুমারখালী হাসপাতালে লইয়া ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আহত ইমরান ও সাচ্চুকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং রবিউলের অবস্থা খুবই খারপ তার ডান কানে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবং কানের শ্রবন শক্তি হ্রাস পাইয়াছে। এ বিষয়ে বাদী পক্ষ পিবিআইকে অনুরোধ করে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অতি দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলেন, কারন তারা এখনো আমাদেরকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
(কে এম শাহীন রেজা)