বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সমন্বিত যোগ্যতায় এগিয়ে থাকায় আইসিটি’র লেকচারার পদে ফিরোজা নাজনীনের সুপারিশ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও হেলপারের মৃত্যু : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় লেক ভরাট করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ : প্রতিবাদী কন্ঠ অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ার লাহিনী বটতলায় রহস্যজনক বিস্ফোরনে আহত ১ কুষ্টিয়া পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের উপর সন্ত্রাসীদের হামলায় ওসি সহ গুলিবিদ্ধ ৫ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়া বিএটিবি তামাক ক্রয় অবৈধভাবে কাজ দখলে নিতে গিয়ে প্রতিরোধের শিকার সুমন : প্রতিবাদী কন্ঠ আরিফুর রহমান সুমনের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত : বিশিষ্ট তামাক ব্যবসায়ী সিহাব উদ্দিনের প্রতিবাদ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ার শিল্পোদ্যোক্তা আলাউদ্দিন আহমেদ ‘শতাব্দী পুরুষ’ সম্মাননায় ভূষিত : প্রতিবাদী কন্ঠ শীর্ষ চরমপন্থী সন্ত্রাসী লিপটনের সেকেন্ড ইন কমান্ড বোমা মাসুম অস্ত্রসহ আটক : প্রতিবাদী কন্ঠ

সমন্বিত যোগ্যতায় এগিয়ে থাকায় আইসিটি’র লেকচারার পদে ফিরোজা নাজনীনের সুপারিশ : প্রতিবাদী কন্ঠ

প্রতিবাদী কণ্ঠ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ পাঠক পড়েছে

প্রতিবাদী কণ্ঠ ডেস্ক ॥
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে লেকচারার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলসহ সার্বিক বিষয় মূল্যায়ন শেষে নিয়োগ বোর্ড ফিরোজা নাজনীনকে লেকচারার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে।
নিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ পদে ফিরোজা নাজনীন ছাড়াও শামিম তাজরিয়া আনান্যা, কাশিফা শাকী, খোন্দকার তাসনিয়া হক, রাকিবুল ইসলাম, মাইনুল রানা, আবু রুম্মান রেফাত এবং রাকিবুল ইসলাম প্রতিযোগিতা করেন। প্রত্যেক প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন আবেদনকারীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সিজিপিএ ফিরোজা নাজনীনের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে ফিরোজা নাজনীন ২০০৮–০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হওয়ায় সে সময়কার মূল্যায়ন পদ্ধতি, নম্বর প্রদানের ধারা এবং সিজিপিএ প্রদানের মানদণ্ড বর্তমান সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি তুলনীয় নয়। ফলে কেবল সিজিপিএর সামান্য পার্থক্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের সামগ্রিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা সমীচীন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা, একাডেমিক নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা এবং নিয়োগ বোর্ডের বিভিন্ন মূল্যায়ন ধাপ সমান গুরুত্ব বহন করে।
একাডেমিক জীবনে ফিরোজা নাজনীন স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উভয় পরীক্ষায় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। অন্যদিকে কয়েকজন আবেদনকারীর সিজিপিএ কিছুটা বেশি হলেও তাঁদের অধিকাংশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশনা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
২০২০ সাল থেকে তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে লেকচারার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত পাঠদান, কোর্স পরিচালনা, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন এবং একাডেমিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
গবেষণা ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর ১৬টি জার্নাল ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রকাশিত গবেষণাপত্র রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। তাঁর গবেষণাকর্ম ইতোমধ্যে Google Scholar-এ ১০০-এর অধিক Citation অর্জন করেছে, যা গবেষণার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের পরিচায়ক।
শুধু গবেষণাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মানোন্নয়ন কার্যক্রমেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের BAETE (Board of Accreditation for Engineering and Technical Education) এবং Bangladesh Accreditation Council (BAC)-এর অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠদান পদ্ধতির ওপর Teaching and Learning বিষয়ে ছয় মাসব্যাপী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।
সম্প্রতি তিনি জাপান সরকারের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ MEXT Scholarship অর্জন করেছেন। আগামী অক্টোবর সেশন থেকে তিনি জাপানে Digital Pathology বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা শুরু করবেন। আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এই বৃত্তি অর্জন তাঁর গবেষণা দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ একাডেমিক সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিয়োগ বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লেকচারার নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল সিজিপিএ নয়; বরং লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস, মৌখিক পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা সম্ভাবনাসহ সকল বিষয় সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সামগ্রিক মূল্যায়নে ফিরোজা নাজনীন অন্যান্য আবেদনকারীদের তুলনায় অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ, অভিজ্ঞ এবং গবেষণামুখী প্রার্থী হিসেবে প্রতীয়মান হন।
এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৭ বছরেও বিভাগে কোনো নারী শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন দক্ষ নারী শিক্ষক নিয়োগ বিভাগের একাডেমিক পরিবেশে বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস, মৌখিক পরীক্ষা, শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং সামগ্রিক একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে ফিরোজা নাজনীনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের লেকচারার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।

(কে এম শাহীন রেজা)

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2021-2022 । প্রতিবাদী কন্ঠ
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580