
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণি থেকে উপরের শ্রেণিতে উঠানো হচ্ছে অটোপ্রমোশন দিয়ে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেহেতু এ বছর পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই প্রমোশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করার ব্যবস্থা নিতে হবে। ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় সব শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করবেন। কিন্তু যারা চার বছর ডিপ্লোমা কোর্সের শেষ সেমিস্টারে রয়েছেন তাদের কি হবে? এমন প্রশ্নে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দেশের পলিটেকনিক কলেজগুলোর লাখো শিক্ষার্থী। পরীক্ষা না হওয়ার কারণে সারাদেশের প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ঝুলে আছে। শেষ বর্ষের শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় চাকরির বাজারেও প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।
ঢাকা পলিটেকনিক কলেজের ৮ম পর্বের এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমটি জুন-জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে। কিন্তু শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে আমাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমাদের এমন অবস্থা যেন তীরে এসেও তরী কূলে ভিড়ছে না।’
তানিয়া সুলতানা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ডিপ্লোমা শেষ করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আমার ইচ্ছা ছিলো। এখন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে ভর্তি হবো, লেখাপড়া শেষে কর্মজীবনে কবে প্রবেশ করবো তাই জানিনা।’
জানা যায়, পলিটেকনিকের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা না হওয়া ও শতভাগ পাসের কারণে সে দাবি আরো জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন।