শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ২ লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত : প্রতিবাদী কন্ঠ আবারো আলোচনায় সেই রবিজুল, দুজনকে তালাক দিতে ২২ গ্রাম প্রধানের চাপ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় লিজকৃত রেলের জমি বিক্রি করে বাড়ী নির্মান : প্রতিবাদী কন্ঠ সরকার কোন দূর্ণীতিবাজকে পৃষ্টপোশকতা করছে না -এমপি হানিফ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান ল্যাবরেটরি ভ্যানের যাত্রা শুরু : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কর্মশালায় মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই : প্রতিবাদী কন্ঠ সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষিদের মাঝে চেক বিতরণ : প্রতিবাদী কন্ঠ কুষ্টিয়ায় ১০ দিন পর ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার : প্রতিবাদী কন্ঠ

কুষ্টিয়ায় রাইস মিলগুলোর বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় হুমকির মুখে কৃষক ও সাধারণ জনগণ

এস এস রুশদী:
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ৫১২ পাঠক পড়েছে

কুষ্টিয়ায় অটো রাইস মিলের বর্জ্যে ভয়াবহ দূষণের শিকার খাজানগর-কবুরহাটের সেচ খালগুলো। কবুরহাট কদমতলায় বর্জ্যে ভরাটও হয়ে গেছে খাল। দুর্গন্ধযুক্ত কালচে পানি ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। দূষনের ফলে এলাকার পুকুর জলাশয়ে মরছে মাছ। ভারী এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটিরও নেই বর্জ্য শোধনাগার। এ বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও স্থানীয় মিলমালিকরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

কুষ্টিয়া খাজানগর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান-চালের মোকাম। এখানে বড় বড় অটোমেটিক রাইস মিলই আছে ৫৫টি। তাদের কোনটিরই নেই বর্জ্য শোধনাগার। মিলের দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের খালে। যা চলে যাচ্ছে কৃষি জমিতে, যাচ্ছে মাছ চাষের পুকুরে। কৃষি উৎপাদন হচ্ছে ব্যাহত, মরে ভেসে উঠছে মাছ। দূষিত পানির সঙ্গে ধানের চিটা, কুড়া ও ছাই থাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খালগুলো। আবার কোন কোন রাইস মিল দখলে নিয়েছে খালের জায়গা। সরু করে নিজেরাই নির্মাণ করে নিয়েছে কালভার্ট। দূরের রাইস মিলও পাইপ লাইনে বর্জ্যের সংযোগ রেখেছে খালের সঙ্গে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বিপ্লব বলেন, এলাকার কোন পুকুরেই মাছ বাঁচে না। ক’দিন পরপরই মাছ মরে ভেসে ওঠে। তিনি বলেন, কৃষি কাজে শ্রমিক পাওয়া যায় না। জমিতে দূষিত পানি থাকায় ভয়ে হাত দিতে চায় না তারা চর্ম রোগের ভয়ে। তিনি আরো বলেন, এসব নিয়ে মিল মালিকদের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। তারা দূষিত পানি না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মানেন না।

বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোমিন মন্ডল নিজেও রাইস মিলের মালিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মিল মালিকরা কারোর কথা কর্ণপাত করেন না। তিনি বলেন, এসব খাল প্রতিবছরই খনন করা হয়। কিন্তু রাইস মিলের বর্জ্যের কারণে ক’দিনেই ভরে যায়। তিনি আরো বলেন, এমপি মহোদয় তাদের এসব দূষণ বন্ধ করতে বলেছেন কিন্তু তারা শোনেন নি। এদিকে এসব বিষাক্ত বর্জ্যে ক্ষতিকর ভারী ধাতব পদার্থ থাকার কথা বলছেন কৃষি কর্মকর্তা। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, এর মধ্যে আইরন, লেডসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার দূষিত পানিতে উৎপাদন কম হয় বলেও জানান তিনি।

বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে আগ্রহের কথা মিল মালিক নেতারা জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কুষ্টিয়ার সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক বলেন, মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ আমরা করতে চাই না। তিনি বলেন, সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে প্লান্ট নির্মাণ সহজ হবে। এদেরকে সহযোগিতা করার কথা বলছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতা। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু করার দরকার হলে করবেন তিনি। তবে এ জন্য মিল মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

এসব প্রতিশ্রুতিতে কোন আশার আলো দেখছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তরল বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি খালে ছেড়ে দিচ্ছে মিল মালিকরা। প্রতিনিয়ত একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ অবধি এই পরিশোধণাগার নির্মাণ না করায় এই এলাকার কৃষক এবং মানুষের চরম ক্ষতি হচ্ছে। তারা অতি দ্রুত এর সমাধান চান।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2021-2022 । প্রতিবাদী কন্ঠ
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580