
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভেঙ্গে পড়েছে করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থা। ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী সিনিয়র চিকিৎসকরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান না করায় গত ২০ ঘন্টায় ১২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ১৯ জুন কুষ্টিয়া জেলায় সর্বোচ্চ করো না আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৬৪ তে উন্নীত হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গত দেড় বছর ধরে ডাঃ মুসা কবীর ,ডঃ তাপস কুমার সরকার ও ডাক্তার নাসিমুল বারী বাপ্পির নেতৃত্বে তরুণ চিকিৎসকদের যে টিম ছিল তা ভেঙ্গে বর্তমান হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আব্দুল মোমেন নতুন রোস্টার তৈরি করেছেন। এখানে সিনিয়র চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মানুষের সেবায় নিবেদিত এক ডাক্তার মুসা কবীর নিজেই করোনায় আক্রান্ত, তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে বের হতেই পারবেন না, কর্মস্থলেও যেতে পারবে না করোণা ওয়ার্ডে যাওয়া তো দূরের কথা। ডঃ তাপস কুমার সরকার ও ডাক্তার নাসিমুল বারী বাপ্পির নাম নেই এই নতুন তালিকায়।
নতুন তালিকার প্রধান ডাঃ সালেক মাসুদ নিজেই কখনো করোনা ওয়ার্ডে জাননা। অভিযোগের তীর এখন ডাক্তার সালেক মাসুদের দিকে ধাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে করোণা রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের। সিনিয়র চিকিৎসকগণ ঘরে বসে নার্সের মুখে শুনে ও ভিডিও কলের মাধ্যমে অন্ধকারে ঢিল মারার মত প্রেসক্রিপশন করছেন। রোগীর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো এ চিকিৎসা কাজে আসছে না করোনা রোগীদের। রোগীর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে কোন রোগী কোথায় রেফার্ড করতে হবে নতুবা এখানেই চিকিৎসা হবে এবং সেই চিকিৎসা কিভাবে হবে তা সরেজমিনে না গেলে বুঝবেন কিভাবে।
এদিকে কুষ্টিয়ায় ধেয়ে আসছে করোনা। সীমান্ত এলাকা দৌলতপুরে টেস্ট করলেই মিলছে করোনা। কুষ্টিয়া শহরেও একই অবস্থা। যত বেশি টেস্ট করা যাচ্ছে ততবেশি করোনা পজিটিভ রোগী বেরিয়ে আসছে। টেস্ট না করার কারণে অনেক করোনা রোগী সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাভাবিক চলাফেরা করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যে কারণে কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করে করোনা প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।